

মাইজভান্ডার দরবারের ওরশ উপলক্ষ্যে চাহিদা বেশি ভান্ডারী মুলার !
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ির উপজেলার বিখ্যাত ‘ভান্ডারি মুলা’র জনপ্রিয়তা ও চাহিদা দেশ জুড়ে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘ভান্ডারি মুলা’ নামে পরিচিত হলেও এর জাত আসলে জাপানের।
প্রতিটি মুলার ওজন হয় ৫ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত। আকারে বিশাল এবং স্বাদে অসাধারণ।
ফটিকছড়িতে অবস্থিত মাইজভান্ডার দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হজরত আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহির ওরশ ১০ মাঘ উপলক্ষে আগত আশেকভক্ত জায়েরনি ও দর্শনার্থীদের কাছে এই মুলার চাহিদা অত্যন্ত বেশি। এ সময় স্থানীয় কৃষকরাও মুলা বিক্রির জন্য অপেক্ষা করেন। মাইজভাণ্ডারী বার্ষিক ওরশ ঘিরে এই মুলা বিক্রি হওয়ার কারণে ভক্তদের কাছে এটি ‘ভাণ্ডারী মুলা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি বছরের দরবারে আসা ভক্তদের কাছে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এই জাপানি মুলার। দরবারে আগত ভক্ত-অনুরক্তরা এ মুলা দীর্ঘদিন রেখে তবারুক হিসেবেও খান বলে প্রবাদ আছে। ফটিকছড়ির হালদার চরে জমে থাকা পলি-বালি মিশ্রিত জমিতে বিশাল আকারের এ মুলার উৎপাদন হয়।
এদিকে এ কৃষিজ ফসল নিয়ে শুরু হয়েছে গবেষণা। দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর চাষাবাদ কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেজন্য গবেষণা চালানো হচ্ছে। মাইজভান্ডার দরবারের ওরশ উপলক্ষ্যে বিক্রি শুরু এবং চলে আরো কয়েকদিন। খেত থেকে মুলা তুলে মুলার ঝুঁটিতে সুতা বেঁধে রেখে আবার অনেকেই এমনি মুলাকে সড়কের পাশে নিয়ে স্তূপ করে রাখছেন।
নাজিরহাট পৌরসভা, সুন্দরপুর, সুয়াবিল ইউনিয়নসহ হালদা নদীর অববাহিকায় চাষিরা এই মুলা উৎপাদন করে। খেত থেকে তুলে নিয়ে মুলা নাজিরহাট ঝংকার মোড় থেকে মাইজভান্ডার দরবার শরিফ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে পসরা সাজিয়ে বিক্রি করা হয়। একেকটি মুলা ৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে চাষিরা জানান, উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে মুনাফা আগের মতো হচ্ছে না। অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে মুলার আকার ও চাহিদার কারণে কৃষকরা আশাবাদী, ওরশে ভালো দাম পাবেন।
কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, এ মুলার সর্বোচ্চ ওজন ১২ থেকে ১৫ কেজি হয়ে থাকে। সাধারণত এত বড় মুলা দেশের আর কোথাও উৎপাদন হয় না। এই মুলার নাম ‘জাপানি হাইব্রিড তাসাকিসান’ মুলা। ফটিকছড়ির মাইজভান্ডারে বিক্রি হয় বলে স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন ‘ভান্ডারি মুলা’। হাইব্রিড জাতের এই মুলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া হালদা নদী, ধুরুং ও সর্তাখালের বিস্তীর্ণ চরে উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে নাজিরহাট পৌরসভা, সুয়াবিল, সুন্দরপুর, বৃহৎ কাঞ্চননগর দিয়ে বয়ে যাওয়া হালদা, ধুরুংখাল এবং খিরাম দিয়ে বয়ে যাওয়া সর্তাখালের চরাঞ্চলের মানুষের জীবন- জীবিকার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে কৃষিকাজ। এসব এলাকায় ভান্ডারি মুলার চাষ হয়ে থাকে। এর আগে রহস্য উন্মোচনে ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি হাটহাজারীর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের একদল বিজ্ঞানী ফটিকছড়ির সুয়াবিল ও সুন্দরপুর ইউনিয়নের হালদার চর পরিদর্শন করেছিলেন।কৃষকদের কাঠোর পরিশ্রম, যথা সময়ে সার- কীটনাশকের সঠিক ব্যবহারে এই মুলার আকৃতি বড় হচ্ছে। মাঘ মাসের ওরশকে কেন্দ্র করে আয়ের লক্ষ্য স্থির করে চাষিরা ওই মুলার পেছনে সময় দিচ্ছেন বলেই উৎপাদন আশানুরূপ হচ্ছে। তবে এ মুলা নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, অন্যান্য এলাকার চেয়ে হালদার চরের মাটির গুণাগুণ অনেক বেশি ভালো। নদীর পলিমাটির উর্বরতা ও হাইব্রিড জাতের বৈশিষ্ট্যের কারণে মুলার আকৃতি বড় হয়। ফটিকছড়িতে এবার ৫৬০ হেক্টর জমিতে মুলা চাষ হয়েছে। যেখানে প্রায় সাড়ে ১৮ টন মুলা উৎপাদিত হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এবার ওরশ উপলক্ষে কৃষকরা ভালো দাম পাবেন এই মুলা বিক্রি করে এইটাই আশাবাদী সকলে।





