প্রবারণা পূর্ণিমা

প্রকৃতির নিয়ন্ত্রক ও সদা-জাগ্রত শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা”-র পবিত্র চরণে লক্ষ-কোটিবার বন্দনা/প্রণাম/সালাম নিবেদন করছি।

পরম শ্রদ্ধেয়া মমতাময়ী “মহান ছোট মা”-র পবিত্র চরণে লক্ষ-কোটিবার বন্দনা/প্রণাম/সালাম নিবেদন করছি।

মানবতার আলোকবর্তিকা ও আমাদের পরম কল্যাণকামী শ্রদ্ধেয় “মহান ছোট বাবা”-র পবিত্র চরণে লক্ষ-কোটিবার বন্দনা/প্রণাম/সালাম নিবেদন করছি।

সমগ্র বাংলাদেশের চারিদিকে সমস্ত শ্রদ্ধেয় “বাবাজান” বৃন্দ, শ্রদ্ধেয় “মহাপুরুষ বৃন্দ” সহ শ্রদ্ধেয় “দেবতা /ফেরেস্তা গণের” পবিত্র চরণে বন্দনা /প্রণাম/ সালাম নিবেদন করছি।

পরম আরাধ্য “শ্রদ্ধেয় মহান অচিন বাবা” আপনার পবিত্র চরণে আমাদের আসার সৌভাগ্য হওয়ার পর হইতে আমাদেরকে আজ পর্যন্ত যাকে যেভাবে রেখেছেন তার জন্য শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা” আপনার পবিত্র চরণে লক্ষ কোটি বন্দনা/প্রণাম/সালাম সহ কৃতজ্ঞতা নিবেদন করছি।

পরম শ্রদ্ধেয়া মমতাময়ী “মহান ছোট মা”-র পবিত্র চরণে লক্ষ-কোটি বন্দনা/প্রণাম/সালাম সহ কৃতজ্ঞতা নিবেদন করছি।

আমাদের পরম কল্যাণকামী শ্রদ্ধেয় “মহান ছোট বাবা”-র পবিত্র চরণে লক্ষ-কোটি বন্দনা/প্রণাম/সালাম সহ কৃতজ্ঞতা নিবেদন করছি।

“প্রবারণা পূর্ণিমা” হলো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ২য় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব, যা আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপিত হয়। মূলত রাজ কুমার শ্রদ্ধেয় সিদ্ধার্থ (পরবর্তীতে শ্রদ্ধেয় গৌতম বুদ্ধ) দুঃখমুক্তি লাভের দৃঢ় সংকল্পে রাজ্য, রাজত্ব, ভোগ বিলাস ধনকুম্ভ সবকিছু ত্যাগ করে সংসার পরিত্যাগ করেছিলেন শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে। এ তিথিতে তিনি সারথি ছন্দককে সঙ্গে নিয়ে অশ্ব কন্থকের পিঠে চড়ে অনোমা নদীর তীরে পৌঁছলেন। সেখানে রাজ আবরণ সারথি ছন্দককে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করলেন। তিনি ভাবলেন, আমি এখন সন্ন্যাসী, রাজকীয় বাহারি চুল কিবা প্রয়োজন। তরবারি দিয়ে চুলের গোছা কেটে নিলেন। শ্রদ্ধেয় সিদ্ধার্থ মনে মনে অধিষ্ঠান করলেন- যদি বুদ্ধ হওয়ার মত পারমী আমার মধ্যে থেকে থাকে তাহলে চুলের এই গোছা মাটিতে না পড়ে আকাশে স্থিত থাকুক। এই সংকল্প করে তিনি চুলের গোছা উপরের দিকে নিক্ষেপ করলেন। আশ্চর্যের বিষয় হল একটা চুলও মাটিতে পড়ল না। বৌদ্ধধর্ম মতে, স্বর্গের ইন্দ্ররাজা এ চুলগুলো হীরা, মণি-মাণিক্য খচিত স্বর্ণপাত্রে ধারণ করে তাবতিংস নামক স্বর্গে এ চুলকে কেশ ধাতু হিসাবে স্থাপন করে একটি চৈত্য নির্মাণ করেন এবং এ চৈত্যের নাম রাখা হয় চুলামনি চৈত্য। স্বর্গের দেবতারা এখনও উক্ত চুলামনি চৈত্যের পূজা করে থাকেন। এমন বিশ্বাস থেকে মর্ত্যলোকের বুদ্ধভক্ত পূজারীরা স্বর্গের সেই চুলামনি চৈত্যকে পূজা করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ দিনে ধর্মীয় রীতি নীতি মেনে আকাশে ফানুস উড়ান।

বাংলাদেশ একটি বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশ। এই ভূখণ্ডে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সহাবস্থানে বসবাস করছে। প্রতিটি ধর্মের উৎসবই এ দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হলো প্রবারণা পূর্ণিমা।

প্রবারণা শব্দের অর্থ: পালি ‘পবারণা’ শব্দ থেকে প্রবারণা এসেছে। এর অর্থ হলো— বরণ করা (কুশল বা সৎকর্ম বরণ করা) এবং বর্জন করা (অকুশল বা অসৎকর্ম ও পাপ পরিহার করা)। এছাড়া এর অর্থ হলো নিমন্ত্রণ বা আহ্বান জানানো।

আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিহারে অবস্থান করে আত্মশুদ্ধির যে ‘বর্ষাবাস’ পালন করেন, তার সমাপ্তি ঘটে এই দিনে। আত্মশুদ্ধি ও দোষ স্বীকার এর জন্য বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুসংঘ এক সভায় মিলিত হন। সেখানে কেউ কোনো অজ্ঞানকৃত বা ত্রুটি করে থাকলে তা একে অপরের কাছে প্রকাশ করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা ও প্রায়শ্চিত্তের আহবান জানান। পবিত্র এই দিনে শ্রদ্ধেয় গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গ থেকে সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেছিলেন এবং উনার মাকে অভিধর্ম দেশনা দেওয়া সম্পন্ন করেছিলেন। একে ‘অভিধর্ম দিবস’ ও বলা হয়। প্রবারণা পূর্ণিমার পরের দিন থেকে শুরু হয় মাসব্যাপী মহাসম্মানজনক ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসব। পালিত হয় প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে।

মহান পথপ্রদর্শক শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা”-র পবিত্র বিদ্যালয়ে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ ও অনুসারীদের জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে প্রবারণায় আত্নশুদ্ধির আলোয়- আলোকিত হওয়ার জন্য মানবতার কল্যাণকামী শ্রদ্ধেয় “মহান ছোট বাবা” আহবান জানিয়েছেন। শ্রদ্ধেয় “মহান ছোট বাবা” আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র অষ্টশীল বা উপোসথ রাখার চেষ্টা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে আমরা পরিশুদ্ধ হয়ে নিজের এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা জানাতে পারি। পরিশুদ্ধতা উর্বরতার প্রতীক এবং উর্বর ভূমিতে আমরা যতগুলো বীজ রোপন করি তা ফুল ও ফলে ভরে উঠে। কোন বীজ নষ্ট হয় না। ঠিক তেমনি পরিশুদ্ধ মনে সৃষ্টিকর্তা (প্রকৃতির) নিকট যতগুলো আবেদন ও প্রার্থনা জানাই তা প্রত্যেকটি আর্শীবাদ, দয়া ও কৃপা হয়ে সুখ, শান্তি ও সন্তুষ্টি নিয়ে আমাদের জীবনে ফিরে আসে।

সর্বজনপূজ্য মহাপুরুষ শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা” আপনার পবিত্র সান্নিধ্যে থেকে এবং নীরব ত্যাগে উদ্ভাসিত শ্রদ্ধেয় “মহান ছোট বাবা”-র পবিত্র দিকনির্দেশনায় আমরা পবিত্র অষ্টশীল বা উপোসথ নিয়ম অনুযায়ী যে যতদিন পেরেছি রাখার চেষ্টা করেছি। আবার অনেকে পবিত্র অষ্টশীল বা উপোসথ না রেখেও আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী রীতিনীতি পালন করেছেন। পবিত্র প্রবারণায় আমাদের সকলের উদ্দেশ্য হলো, আমাদের সকল প্রতিকূলতা, সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা, দুঃখ, দুর্দশা দূর হোক এবং সকল চাওয়া-পাওয়া, ইচ্ছা, চাহিদা পূরণ হোক। শ্রদ্ধেয় বুদ্ধ- মহাজ্ঞান বুদ্ধত্ব লাভ করতে পারবেন এবং সংকল্প ঠিক ছিল বলেই উনার পবিত্র চুল আকাশে উড়েছিল। আমাদেরও সকলের সংকল্প ও উদ্দেশ্য ঠিক থাকতে হবে।

মানবকল্যাণে আত্মনিবেদিত মহাপুরুষ শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা” আপনার পবিত্র চরণে প্রবারণার এই বিশেষ দিনে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আমাদের অর্জিত পুণ্যরাশি আপনার পবিত্র চরণ তলে আমাদের সকল পরলোকগত পূর্বপুরুষ ও আত্মীয়স্বজন এর উদ্দেশ্যে দান করছি যাতে উনারা যদি নিম্নমুখী থাকে তাহলে এই পুণ্যের মাধ্যমে দুঃখ (কষ্ট) হতে মুক্তি লাভ করে ঊর্ধ্বগতিতে বিচরণ করে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে মত এবং আমরা সকল অনুসারীরা সবাই যাতে আর্থিক, মানসিক, শারীরিক, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয় অর্থাৎ সর্বদিকে উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি লাভ করতে পারি এবং আমাদের সকলের পরিবারে সুখ, শান্তি ও সন্তুষ্টি বিরাজ করে।

সর্বজনপূজিত শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা” এবং শ্রদ্ধেয় “মহান ছোট বাবা” আপনাদের পবিত্র আশ্রয়ের ছাতার নিচে আমাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার সুযোগ দিয়ে যাতে, আমাদের সন্তানরা পড়াশোনায় যুগোপযোগী শিক্ষা লাভ করে জীবনে উন্নতি লাভ করতে পারে এবং আমাদের চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, আয়-উপার্জন করার নানান পথ ও উপায় এর ব্যবস্থা করে দিয়ে আমরা যাতে আর্থিক স্বচ্ছলতা, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ও উৎকর্ষতা লাভ করতে পারি ও আমাদের ব্যয় এর চেয়ে আয় বেশি হয়ে যাতে ভারসাম্য ও সামঞ্জস্য রক্ষা করতে পারি এবং আমাদের যাদের নিজের ভুলের কারণে ঋণ ও আর্থিক সংকট রয়েছে তারা যাতে ঋণ পরিশোধ এবং আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠার সামর্থ্য অর্জন করতে পারি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, অপচয় ও লোভ থেকে বিরত থাকার শক্তি পাই এবং নানান প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি ও অসৎ মানুষের প্রভাব থেকে সতর্ক থাকার জ্ঞান বুদ্ধি পাই এবং নিজের ও পরিবারের বাসস্থান, খাদ্য, পোশাক, চিকিৎসা ও শিক্ষা অর্থাৎ পরিবারের সকলের মৌলিক চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জন করতে পারি এবং প্রকৃতির অনুকূলে আমরা সাহচর্য পেয়ে নানান অসুখ ও দূরারোগ্য রোগ আমাদের থেকে দূরে থেকে যাতে আমরা সুস্থ ও নিরাপদ থাকি এবং বিদেশে অবস্থানরত আমাদের অনুসারী ভাই-বোনেরা যেই দেশেই থাকুক যে অবস্থায় থাকুক যাতে নিরাপদ ও সুস্থ থাকে আপনার পবিত্র চরণে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

মানবতার প্রাণপুরুষ শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা” আপনার পবিত্র চরণে এই পবিত্র প্রবারণায় আমরা সকল অনুসারীরা আমাদের অর্জিত সকল পুণ্যরাশি দান করছি যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ যেন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ পায় এবং আমাদের সমাজ ও দেশে শান্তি, ন্যায়বিচার, সততা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়ে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকল মানুষ সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারে এবং আমাদের দেশের খনিজ সম্পদ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, তেল ও অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক সম্পদ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দিন এবং যা আমাদের দেশের ভূগর্ভে রয়েছে, তা যেন বৈজ্ঞানিকভাবে আবিষ্কৃত ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এসব সম্পদ যেন দুর্নীতি, অপচয় ও লুটপাটের শিকার না হয়ে ও বৈদেশিক চক্রান্তের শিকার না হয়ে বরং দেশের কল্যাণে এবং মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হোক এবং মানুষের জন্য কর্মসংস্থান বেড়ে দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি, সফলতা ও অগ্রগতি লাভ করতে পারে মত এবং প্রকৃত ধর্মের মর্যাদা ও মানবতার সত্য বিকশিত হয়ে মানবতার জয়জয়কার হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় মন্ত্রীপরিষদ, সচিব মহোদয় পর্ষদ, কুটনৈতিক বর্গ, দেশের সকল গণ্য মান্য ব্যক্তিবর্গ, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য এবং আমাদের দেশের মাটি আরো বেশি উর্বর হয়ে ও জ্ঞানে-বিজ্ঞানে-প্রযুক্তিতে কৃষিতে সমৃদ্ধিশালী হয়ে দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ হয়ে ও বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য ও আয় বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের GDP, মাথাপিছু আয়, উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদের উন্নতির মাধ্যমে দেশকে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠার শক্তি দিন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যনিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও অবকাঠামোগত উন্নতির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং দুর্নীতি, প্রতারণা, অপচয় ও অনিয়ম থেকে দেশকে রক্ষা করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত করে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বচ্ছ, নিরাপদ ও আস্থাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠতে সহায়তা করে এবং আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের পুঁজি, জ্ঞান, প্রযুক্তি ও ন্যায্য ব্যবসায়িক সুযোগ লাভের পথ সহজ করে এবং তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন, গুণমান, রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দেশে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও উৎপাদনমুখী- রপ্তানিমুখী ব্যবসা গড়ে উঠার সুযোগ সৃষ্টি করে এবং দেশের মানুষের প্রকৃত আয়, ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করুন এবং সম্পদ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে এমন উন্নয়ন দান করুন, যা শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই নয়, মানুষের সুখ, শান্তি, মর্যাদা ও সামগ্রিক কল্যাণও বৃদ্ধি করে এবং আমাদের দেশকে বড় বড় প্রকল্পের নামে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, অপচয়, দুর্নীতি ও জনসম্পদের অপব্যবহার থেকে রক্ষা করে এবং প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প যেন জনকল্যাণ, কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে এবং দেশের অর্থ সঠিক, স্বচ্ছ ও বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহারের প্রজ্ঞা আমাদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দান করুন এবং জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ যেন অপচয় না হয়ে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগে এবং দেশের সম্পদ রক্ষা করুন এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল, সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে এবং আপনার পবিত্র বিশ্ব প্রেম, মৈত্রী, কল্যাণ, করুণার আশ্রয়ে থেকে পরিবার উন্নত হলে সমাজ উন্নত হবে- সমাজ উন্নত হলে রাষ্ট্র উন্নত হবে- রাষ্ট্র উন্নত হলে দেশ উন্নত হবে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্রমান্বয়ে মানবজাতির কল্যাণ, সত্য ও মানবতা প্রতিষ্ঠা হয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা হওয়ার জন্য আপনার পবিত্র চরণ তলে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা” আপনার পবিত্র চরণে আমাদের এই আবেদন পেশ করার মধ্যে যদি কোন প্রকার ভুলত্রুটি হয়ে থাকে তার জন্য শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা” আপনার পবিত্র চরণে লক্ষ কোটিবার ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা” আপনার পবিত্র চরণে আমাদের এই আবেদন পেশ করার চেষ্টা করছি। আপনি গ্রহণ ও মঞ্জুর করুন, গ্রহণ ও মঞ্জুর করুন, গ্রহণ ও মঞ্জুর করুন ।

আবেদন প্রার্থী
শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা”-র অনুসারীবৃন্দ আমরা।
বিশ্বের প্রতিটি দেশে অবস্থানরত সকল শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা”-র অনুসারী বৃন্দ।

বিঃদ্রঃ সকলে আজ থেকেই প্রতিদিন সৃষ্টিকর্তার (প্রকৃতি) নিকট প্রার্থনায় বলবেন, পবিত্র ফানুস উড়ানোর মাধ্যমে যেন প্রত্যেক মানুষের মঙ্গল, শান্তি এবং কল্যাণ লাভ করে। পবিত্র ফানুস উড়ানো বৌদ্ধদের কাছে শ্রদ্ধেয় বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্ধকার দূর করার প্রত্যয়, আত্মশুদ্ধির আনন্দ ও বিশ্ব শান্তির প্রার্থনার এক অপূর্ব মিশেল। অজ্ঞতার অন্ধকার কাটিয়ে জ্ঞান ও শান্তির আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতীক হলো এই ফানুস। আর যারা চুলামনি চৈত্যের উদ্দেশ্যে অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে সংকল্প করে পবিত্র ফানুস বানিয়েছেন তাদের সকলের উদ্দেশ্যে ও সংকল্প যাতে সফল হয়। পবিত্র ফানুস উড়ুক বা না উড়ুক- উঠুক বা না উঠুক; যারা পবিত্র ফানুস বানিয়েছেন তাদের অ্যাকাউন্টে যাতে পুণ্য পৌঁছে যায় তার জন্য আপনাদের অর্জিত পুণ্যরাশি শ্রদ্ধেয় “মহান অচিন বাবা”-র পবিত্র চরণ তলে দান করবেন। কারণ গভীর সমুদ্রে কন্টেইনারবাহী পণ্যের জাহাজ ডুবে গেলেও ইন্সুরেন্স কোম্পানি কন্টেইনার, পণ্য ও জাহাজ এর মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকে। ঠিক তেমনি আমাদের সংকল্প ও উদ্দেশ্য ঠিক থাকলে আমাদের অ্যাকাউন্টে পুণ্য পৌঁছে যাবে।