আমরা পরবাসী, অদৃশ্য শক্তি দেশ চালাচ্ছে বিএনপির সমাবেশে: মির্জা ফখরুল

অদৃশ্য শক্তি দেশ চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ব্যাংক লুটপাট করছে নতুন আইনের মাধ্যমে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের সহযোগী হয়েছে। তারা সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কোথায় যাবেন। আসলে আমরা নিজ দেশে পরবাসী। বিমানবন্দরগুলোতেও হয়রানি করা হয়। তাহলে দেশ চালাচ্ছে কে? আমার মনে হয় অদৃশ্য শক্তি দেশ চালাচ্ছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে যুবদল।

‘বিএনপি সন্ত্রাস করলে নাকি ডাবল শিক্ষা দেবে’ ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সন্ত্রাস করে না। সন্ত্রাসের মধ্যেই আওয়ামী লীগের জন্ম। ১৮ বছর ধরে দেশের জনগণের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়ে বাকশাল কায়েমের চূড়ান্ত আয়োজন সম্পন্ন করেছে। মানুষ ভোটাধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সাধারণ মানুষ বাজারে গেলে চাল, ডাল, পেঁয়াজ-রসুন কিনতে পারে না।

প্রতিদিনই জিনিসের দাম বাড়ছে। রেলের ভাড়া বাড়ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের আন্দোলনে হয়তো ভাটা পড়েছে। কিন্তু থেমে যায়নি। আন্দোলন চলছে। অনেক নেতাকর্মী এখনো জেলে। আমাদের নেতা তারেক রহমান বিদেশে আছেন। তাকে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের লজ্জাশরম বলতে কিছু নেই। তারা লজ্জাশরমের মাথা খেয়েছে। কিন্তু মনে রাখবেন, জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাদের বাধ্য করবেন না উত্তাল তরঙ্গ তৈরি করতে। কোনো স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারেনি; এদেশের মানুষ কিন্তু সংগ্রামী।

খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশের মজলুম নেত্রী নন। তিনি সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা, আত্মত্যাগকারী নেতাদের অন্যতম। তিনি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা ও ফিরে পাওয়ার জন্য আজীবন লড়াই করছেন। যিনি গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। কিন্তু দানব সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কারণ সরকার মনে করে, খালেদা জিয়া মুক্ত হলে তাদের মসনদ টিকবে না। জনগণের উত্তাল তরঙ্গের মধ্যে ভেসে যাবে। এ সময় তিনি খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের মুক্তি চান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার টিকেই আছে মিথ্যা মামলা ও আদালতকে ব্যবহার করে। গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলনকে নিদারুণভাবে পণ্ড করে দিয়েছে। তবে এভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন ও গুম-খুন করে গণতন্ত্র ও স্বাধিকারের আন্দোলন কখনোই স্তিমিত করা যাবে না। অতীতেও যায়নি।

যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে আবারও একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে চায়। সেটা হলো গণতন্ত্রের মোড়কে বাকশাল। সুতরাং তরুণ-যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। জনগণকে নিয়ে রাজপথে নামতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা তো নেই। এখন আবার ডামি নির্বাচন শুরু হয়েছে। মানে আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে আর তাদেরই লোকজন বিরোধী প্রার্থী হবে। এখানে কিছু গৃহপালিত দলও আছে। একটা ক্যারিকেচার বা তামাশা শুরু করেছে।

যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না ও শফিকুল ইসলাম মিল্টনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, যুবদল নেতা নূরুল ইসলাম নয়ন, কামরুজ্জামান দুলাল, গোলাম মাওলা শাহিন, ইসহাক সরকার, আবদুল আজিজ, খন্দকার এনামুল হক এনাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শহীদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের আবু আফসান ইয়াহিয়া প্রমুখ।