প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাময়িক সংকটের সময়ে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন কূপ খনন, সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং একাধিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে দেশে ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২ডি ও ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার মাধ্যমে তেল-গ্যাসের নতুন মজুতের সন্ধান করা হবে। সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকেও তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ রয়েছে। স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গড়ে প্রতিদিন ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় মহেশখালীর কুতুবজোমে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্যাস পাওয়া সাপেক্ষে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।